বিশ্বের সেরা ১০ আকর্ষণীয় স্থান

বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান কোনটি? এক বাক্যে বলা কঠিন। ২০১৬ সালে ‘ট্রিপ অ্যাডভাইজার’ এ নিয়ে এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেখানে সারাবিশ্বের ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভোট দেয়। এভাবে ২০টি সেরা স্থানের নাম উঠে এসেছে। ভোটে জয়ী ২০টি দর্শনীয় স্থানের নামের মধ্যে সেরা ১০ স্থানগুলো সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যেতে পারে।
১. মাচু পিচু, পেরু
মাচু পিচু কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের আগের সময়কার একটি ইনকা শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৭,৮৭৫ ফুট। এটি পেরুর উরুবাম্বা উপত্যকার ওপরে একটি পর্বতচূড়ায় অবস্থিত। মাচু পিচুই সম্ভবত ইনকা সভ্যতার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শণ, যাকে ইনকাদের হারানো শহর বলা হয়। মাচু পিচু পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান। এটিকে ১৯৮১ সালে পেরুর সংরতি ঐতিহাসিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো এটিকে তাদের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে। কোন ধরনের কঠিন পাথর বা টাইলস ব্যবহার করা ছাড়াই পুরাতন নিদর্শনগুলো এখনো টিকে আছে।
২. শেখ জায়েদ গ্রান্ড মসজিদ সেন্টার, আবুধাবী
শেখ জায়েদ গ্রান্ড মসজিদ আরব-আমিরাতের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এ মসজিদ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম ও সুন্দরতম। চার কোণে চারটি মিনারে পুষ্পশোভিত নকশা রয়েছে। যার উচ্চতা ৩৫১ ফুট। নকশা নির্মাণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী মার্বেল পাথর, মূল্যবান স্ফটিক পাথর ও মৃৎশিল্প। শেখ জায়েদ মসজিদের নকশায় মুঘল এবং মুরিস মসজিদ, গম্বুজ বিন্যাস ও ফোর বিন্যাসে বাদশাহী লাহোরে মসজিদ, মিনারে দ্বিতীয় হাসান মসজিদ (মরক্কো) এর প্রভাব স্পষ্ট প্রতীয়মান। আরবের ২০০ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিল্পচর্চার নমুনা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে মার্বেল পাথর, সোনা, আধা মূল্যবান পাথর, স্ফটিক ও মৃৎশিল্পের বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে। ডিজাইন ও নির্মাণে ইতালি, জার্মানি, মরক্কো, পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইরান, চীন, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, গ্রিস ও সংযুক্ত আরবসহ অনেক দেশ থেকে কারিগর ও উপকারণ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটিতে আছে ছোট-বড় সাত আকারের ৮২টি গম্বুজ। যা নির্মাণ করা হয়েছে শ্বেত মার্বেল দিয়ে। মসজিদের বৃহত্তম গম্বুজের উচ্চতা ২৭৯ ফুট।
৩. অ্যাংকর ভাট, সিএম রীপ, কাম্বোডিয়া
কম্বোডিয়ার অ্যাংকরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় মন্দির এটি। সুবিশাল এই স্থাপনাটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ মন্দির। ১২শ’ শতাব্দীতে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা ২য় সূর্যবর্মণ। তিনি এটিকে তার প্রধান উপাসনালয় হিসেবে তৈরি করেন। তখন থেকেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত। প্রথমদিকে হিন্দু মন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরে এটি বৌদ্ধ মন্দিরে পরিণত হয়। অ্যাংকর ভাটের নির্মাণশৈলী খমের সাম্রাজ্যের স্থাপত্য শিল্পকলার অনুপম নিদর্শন। এটি কম্বোডিয়ার জাতীয় পতাকায় স্থান পেয়েছে এবং দেশটির প্রধান পর্যটন আকর্ষণ এটি।
৪. সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা, ভ্যাটিকান সিটি
ভ্যাটিকান সিটিতে অবস্থিত সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চার্চ। যদি কেউ রোম ভ্রমণ করেন, তাহলে তার অবশ্যই সেন্ট পিটার্স ভ্রমণ করা উচিত। রেনেসাঁ আমলের তৈরি এই চার্চের গঠনশৈলী এতই অসাধারণ যে, প্রায় প্রতিবছর চল্লিশ লাখের বেশি মানুষ সেখানে ভ্রমণে যান।

৫. তাজমহল, আগ্রা, ভারত
তাজমহলকে মুঘল স্থাপত্য শৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়। এর নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। যদিও সাদা মার্বেলের গম্বুজাকৃতির রাজকীয় সমাধীটিই বেশি সমাদৃত। তাজমহল আসলে সামগ্রিকভাবে একটি জটিল অখন্ড স্থাপত্য। এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
৬. মসজিদ-ক্যাথিড্রাল, স্পেন
মসজিদ-ক্যাথিড্রাল সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে অতি সুক্ষ্ম নির্মাণশৈলীর জন্য পরিচিত হয়ে আছে। দেয়ালে লাল আভায় আঁকা নকশা, সরু খিলান এটির প্রাকৃতিক রূপ আরো বাড়িয়ে দেয়। সারা বছর লাখ লাখ দর্শনার্থী সেখানে বেড়াতে যায়। এটি যখন নির্মাণ করা হয় তখন সেটি মুসলমানদের মসজিদ হিসেবেই বানানো হয়। কিন্তু ১৩ শতাব্দীতে খ্রিষ্টানদের গির্জায় রূপান্তর করা হয় সেটিকে। জানা যায়, প্রাচীন আমলে অনেক ধর্ম প্রচারক এটাতে এসে ধর্ম প্রচার করেছিলেন।
৭. চার্চ অব সেভিয়ের অন ব্লাড, সেন্ট পিটার্সবার্গ, রাশিয়া
চার্চ অব সেভিয়ের অন ব্লাডের স্থাপত্ব নিদর্শন অতি চমৎকার। সোনালী গম্বুজগুলোর উপর যখন রোদের ঝলকানি পড়ে, তখন অতি চমৎকার দেখায়। ১৮৮১ সালের মার্চ মাসে সম্রাট আলেকজান্ডার দ্বিতীয় এটি নির্মাণ করেন। তখনকার সম্রট পরিবার ও কিছু প্রাইভেট মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান এটাতে অর্থায়ন করেন। এর সোনালী রংয়ের নকশা দর্শকদের বেশি আকর্ষণ করে।
৮. আলহাম্বরা, গ্রানাডা, স্পেন
এই স্থাপনাটি মূলত নির্মাণ করা হয় সামরিক উদ্দেশ্যে। তবে ১৪৯২ সালে এটিকে আদালতের কাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ১৮৭০ সালে এটিকে রাষ্টীয় স্থাপনায় ভূষিত করা হয় এবং তার পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রতিবছর কয়েক লাখ দর্শনার্থী ভিড় জমায় এ স্থাপনাটিতে।
৯.লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্যাক্টিং পোল, যুক্তরাষ্ট্র
১৯২২ সালে জলাভূমির ওপর স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। যুক্তরাষ্টের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন-এর সম্মানার্থে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার দর্শনার্থী সেখানে বেড়াতে যায়।
১০. মিলান ক্যাথেড্রাল, মিলান, ইতালি
ট্রিপ অ্যাডভাইজারের ভোটাররা মিলান ক্যাথেড্রালকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর চার্চ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এটির যে পুরাতন ভাঙ্গা অংশ আছে, সেটি অতি চমৎকার। সেখানে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। রোদের সময় এর রূপ আরো চমৎকার দেখায়। ভবনটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৬ শত বছর। বিশ ধরনের ধর্ম যাজক এখানে ধর্ম প্রচার করেছিলেন।
আরো ১০টি স্থাপনা হলো
ক্স গোল্ডেন গেট ব্রিজ, সান ফ্রান্সিসকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ক্স হ্যাগিয়া সোফিয়া মিউজিয়ামম, ইস্তানবুল, তুরস্ক
ক্স গ্র্যান্ড- প্লেস, ব্রাসেলস, বেলজিয়াম
ক্স আইফেল টাওয়া, প্যারিস, ফ্রান্স
ক্স ডেম ক্যাথিড্রাল, প্যারিস, ফ্রান্স
ক্স মিউটিয়ানিউ, বেইজিং, চীন গ্রেটওয়াল
ক্স আক্রোপলিস, এথেন্স, গ্রীস
ক্স কোরকোভাডো- ক্রিস্টো রেডেন্টর, রিও দে জেনেরিও, ব্রাজিল
ক্স বিগ বেন, লন্ডন, যুক্তরাজ্য
ক্স চিচেন ইত্জা, মেক্সিকো